পরিচিতি

নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়া মুক্তা

পঞ্চগড়-০১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী
সহ-সভাপতি, পঞ্চগড় জেলা আওয়ামীলীগ

১৯৭১ সাল। সমগ্র বাংলাদেশ তখন অগ্নিগর্ভ। বঙ্গবন্ধুর ডাকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা তখন প্রাণপণ লড়াই করছেন। এমন উত্তাল দিনে ১৯৭১ সালের ৪ অক্টোবর হিমালয়ের পাদদেশে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ার পরিচিতিঞ্চলে তাঁর জন্ম। বঙ্গবন্ধুর অন্ধভক্ত বাবা ছিলেন তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের একজন কর্মচারী। বাবা-মা পরিচিতিঞ্চলে জন্ম নেয়া তাদের সন্তানের নাম রাখলেন ‘মুক্ত’। বাবা-মায়ের সেই মুক্ত, আজকের পরিচিতি। কাগজে-কলমে নাম নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়া মুক্তা।

বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে Development Studies বিষয়ে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে নাঈমুজ্জামান মুক্তা বাংলাদেশ পোস্ট নামে একটি ইংরেজি দৈনিকের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। শৈশব-কৈশোর থেকে তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। পরিচিতির রাজনীতি শুরু হয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে। সরাসরি আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেয়ার সুযোগ হয় ১৯৯০ সালে স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এরশাদের ছবি নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলায় তাঁর নামে মামলা হয়। পরের বছর ১৯৯১ সালে পঞ্চগড়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সমাবেশ বন্ধ করতে জেলার প্রবেশ মুখে দিনরাত গান গেয়ে, স্লোগান দিয়ে তাকে প্রতিহত করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে কয়েক'শ সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়ন নেতা-কর্মীকে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। সার্বক্ষণিক রাজনীতিবিদ পরিচিতি বর্তমানে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিচিতির পরিবারের সবাই বিশেষ করে বাবা-মা, চাচা-মামা, ভাই-বোন, এবং নিকটজনের সকলেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শ্বাশুড়ী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

নাঈমুজ্জামান মুক্তা ২০০৮ সালে এইচটি ইমামের নেতৃত্বে মিডিয়া সেন্টারের সাথে যুক্ত হন। এসময় প্রিয় নেত্রীকে শেখ হাসিনাকে আটক করা হলে তাঁর মুক্তির দাবিতে জনমত গড়ে তুলতে বিভিন্ন দুতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানদের কাছে নিয়মিতভাবে তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করতে থাকেন। ইউএনডিপিতে সেসময় তাঁর জ্যেষ্ঠ সহকর্মী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রমকে ১/১১’র সরকার গ্রেফতার করলে সেসময় তাঁর পরিবারের পাশে থাকেন এবং আদালত ও জেল গেটে তাঁর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ধানমন্ডিতে নারীনেত্রী রোকেয়া কবীরের বাসায় প্রয়াত জননেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এইচটি ইমাম, ডঃ মসিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা তারেক আলীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়মিত মিটিং-এ দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করেছেন নাঈমুজ্জামান মুক্তা।

১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছেন তিনি। সে ধারাবাহিকতায়, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কাজ করা হয় পরিচিতির। সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলনসহ বর্ণিবাওড়ে জেলেদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জন্মভিঠা টুঙ্গিপাড়ার বাড়িতে থাকার সুযোগ হয়। এরপর পরিচিতি ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-তে এবং ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামে জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। এসময় পরিচিতি কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে।

মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজ জেলা পঞ্চগড়ে ফিরে আসেন নাঈমুজ্জামান মুক্তা। সাধারণ মানুষের স্বপ্নগুলো তাঁদের চোখ দিয়ে দেখতে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ‘‘স্বপ্ন কুড়ানোর আঙ্গিনায়” শিরোনামে একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হাতে নেন তিনি। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উঠান বৈঠক করে সকলের স্বপ্ন কুড়িয়ে মালা গেঁথে প্রস্তুত করেন ‘স্বপ্নের পঞ্চগড় কেমন দেখতে চাই’ নামক আঞ্চলিক ইস্তেহার!” পঞ্চগড় শের-ই বাংলা পার্কে এটা উপস্থাপনা করা হয় ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতাকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে লক্ষ্যে পঞ্চগড়ে আয়োজন করেন “লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে” নামে একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনে স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বঙ্গবন্ধু’র “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” পাঠ এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নারীর ক্ষমতায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পঞ্চগড়ের কিশোরীদের নিয়ে মাসব্যাপী বাইসাইকেল রান “কন্যারা আগে বাড়ো” নামের বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করেন পরিচিতি। এছাড়া হাত মিলাও কর্মসূচি, শেকড়ের কাছে কান পেতে শোনা, দোয়ার দরখাস্ত, স্বপ্ন কুড়ানোর আঙ্গিনায়, তারুণ্যের প্রথম ভোট নৌকা মার্কার পক্ষে হোক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধ জাতীয় সঙ্গীত চর্চা, মুজিববর্ষ উদযাপনসহ অসংখ্য কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে ও কাছে আছেন নাঈমুজ্জামান মুক্তা।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-০১ আসনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নাঈমুজ্জামান মুক্তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এজন্য তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কাছে এবং অবশ্যই এলাকার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণকে নিয়ে স্বপ্নের পঞ্চগড়-০১ গড়ে তুলবেন এটাই এখন পরিচিতির একমাত্র স্বপ্ন।

Get an Appointment

lorem Ipsum